Showing posts with label Mangrove Flora (বাদাগাছ). Show all posts
Showing posts with label Mangrove Flora (বাদাগাছ). Show all posts

Friday, 11 August 2017

Major Mangrove Plants (মূখ্যবাদা প্রজাতি)

পৃথিবীতে হাজার হাজার গোত্রের (Family) আওতায় লাখ লাখ গণের (Genus) অধীন কোটি কোটি উদ্ভিদ প্রজাতি আছে। এর মধ্যে কতোগুলো প্রজাতিকে বাদাগাছ (Mangrove Plants) বলা হয়। উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য, ও প্রতিবেশ বিবেচনায় নিয়ে বাদাগাছগুলোকে তিনভাগে ভাগ করা হয় : মূখ্যবাদা (Major Mangrove, Pure Mangrove or Extreme Mangrove), গৌণবাদা (Minor Mangrove) ও বাদা সহচর (Mangrove Associate)।

বাদা বিশেষজ্ঞগণের মতে মাত্র ৫টি গোত্রের ১০টি গণ মূখ্যবাদা হিশেবে পরিগণিত। মূখ্যবাদা প্রজাতিগুলোর দুটো প্রধান বৈশিষ্ট্য আছে : (১) একই গণের কোনো প্রজাতিই বাদাবন বা বাদা প্রতিবেশের বাইরে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। এবং (২) সাধারণত বাদাবনে এসব উদ্ভিদ একসঙ্গে জন্মায় এবং ছোটখাটো বন বা আবাসস্থল গড়ে তোলে।

মূখ্যবাদা শ্রেণীর গোত্র ও গণসমূহ হলো : Acanthaceae বা বাসক গোত্রের Avicennia (বাইন) গণ; Arecaceae বা তাল গোত্রের Nypa (গোলপাতা) গণ; Combretaceae বা অর্জুন গোত্রের Conocarpus, Laguncularia ও Lumnitzera (কিরপা) গণ; Lythraceae বা জারুল গোত্রের Sonnetaria (কেওড়া) গণ এবং Rhizophoraceae বা গর্জন গোত্রের Bruguiera (কাঁকড়া), Ceriops (গরান), Kandelia (গুরা) ও Rhizophora (গর্জন) গণ ।

মূখ্যবাদা প্রজাতির উদ্ভিদ

ACANTHACEAE (বাসক গোত্র) : একটি গণ
------------------------------------------------
Avicennia: ৮টি প্রজাতি, ২টি উপ-প্রজাতি ও ১টি জাত গৃহীত; ১টি প্রজাতি অমীমাংসিত
------------------------------------------------
Avicennia balanophora Stapf & Moldenke (1940)
Avicennia bicolor Standl. (1923)
Avicennia germinans (L.) L. (1764)
Avicennia integra N.C.Duke (1988)
Avicennia marina (Forssk.) Vierh. (1907) : মরিচা বাইন, পেয়ারা বাইন, কনক বাইন
Avicennia marina subsp. australasica (Walp.) J.Everett (1994)
Avicennia marina subsp. eucalyptifolia (Valeton) J.Everett (1994)
Avicennia marina var. rumphiana (Hallier f.) Bakh. (1921)

Avicennia mindanaense Elmer (1915) [Unresolved]
Avicennia officinalis L. (1753) : কালা বাইন, জাত বাইন, বড়ো বাইন
Avicennia schaueriana Stapf & Leechm. ex Moldenke (1939)
Avicennia tonduzii Moldenke (1938)


ARECACEAE (তাল গোত্র) : একটি গণ
------------------------------------------------
Nypa (গোলপাতা গণ) 
(১টি প্রজাতি গৃহীত, কোনো অমীমাংসিত প্রজাতি নেই)
------------------------------------------------ 
Nypa fruticans Wurmb (1779) : গোলপাতা, গোলপাতি, ওমগাছ  


COMBRETACEAE (অর্জুন গোত্র) : তিনটি গণ
------------------------------------------------ 
Conocarpus: ২টি প্রজাতি গৃহীত ও ২টি অমীমাংসিত
------------------------------------------------
Conocarpus erectus L. (1753)
Conocarpus lancifolius Engl. (1900)
Conocarpus monocarpus Steud. (1821) [Unresolved]
Conocarpus parvifolius Hochst. ex A.Rich. (1848) [Unresolved]

------------------------------------------------ 
Laguncularia: ১টি প্রজাতি গৃহীত ও ৬টি অমীমাংসিত
------------------------------------------------ 
Laguncularia glabriflora C.Presl (1831) [Unresolved]
Laguncularia glabrifolia C. Presl (1831) [Unresolved]
Laguncularia haenkei Endl. (1836) [Unresolved]
Laguncularia lutea Gaudich. (1830) [Unresolved]
Laguncularia martii Colla (1834) [Unresolved]
Laguncularia pedicellata Steud. (1840) [Unresolved]

Laguncularia racemosa (L.) C.F.Gaertn. (1807)

------------------------------------------------  
Lumnitzera: ২টি প্রজাতি গৃহীত ও ৪টি অমীমাংসিত
------------------------------------------------ 
Lumnitzera littorea (Jack) Voigt (1845)
Lumnitzera lutea C.Presl (1833) [Unresolved]
Lumnitzera montana F.Muell. (1861) [Unresolved]
Lumnitzera pedicellata C.Presl (1831) [Unresolved]
Lumnitzera pentandra Griff. (1854) [Unresolved]

Lumnitzera racemosa Willd. (1803) : কিরপা, কৃপা


LYTHRACEAE (জারুল গোত্র) : একটি গণ
------------------------------------------------ 
Sonnetaria: ৪টি প্রজাতি ও ২টি সঙ্কর গৃহীত; ৪টি প্রজাতি ও ১টি সঙ্কর অমীমাংসিত
------------------------------------------------ 
Sonneratia alba Sm. (1816) : সাদাচক কেওড়া
Sonneratia apetala Buch.-Ham. (1800) : কেওড়া, কেরফা
Sonneratia caseolaris (L.) Engl. (1897) : ওড়া, ছৈলা, ছইলা
Sonneratia griffithii Kurz (1875) [Unresolved] : চক কেওড়া
Sonneratia × gulngai N.C. Duke & Jackes (1984)
Sonneratia × hainanensis W.C. Ko, E.Y. Chen & W.Y. Chen (1985)
Sonneratia lanceolata Blume (1851) [Unresolved]
Sonneratia ovata Backer (1920)
Sonneratia pagatpat Blanco (1837) [Unresolved]
Sonneratia rubra Oken (1841) [Unresolved]
Sonneratia × urama N.C.Duke (1994) [Unresolved]
  

RHIZOPHORACEAE (গর্জন গোত্র) : চারটি গণ
------------------------------------------------
Bruguiera: ৬টি প্রজাতি গৃহীত, ৩টি প্রজাতি ও ১টি সঙ্কর অমীমাংসিত
------------------------------------------------   
Bruguiera cylindrica (L.) Blume (1827) : বকুল কাঁকড়া
Bruguiera exaristata Ding Hou (1957)
Bruguiera gymnorhiza (L.) Lam. (1798) :
লাল কাঁকড়া
Bruguiera hainesii C.G.Rogers (1919)
Bruguiera madagascariensis DC. (1828) [Unresolved]
Bruguiera nemorosa Blanco (1845) [Unresolved]
Bruguiera obtusa Steud. (1840) [Unresolved]

Bruguiera parviflora (Roxb.) Wight & Arn. ex Griff. (1836) :
বকুল কাঁকড়া
Bruguiera parviflora Wight (1834) [Unresolved]
Bruguiera × rhynchopetala (W.C.Ko) N.C.Duke & X.J.Ge (2011) [Unresolved]

Bruguiera sexangula (Lour.) Poir. (1816) :
চম্পা কাঁকড়া, সোনা চম্পা, ঠুসিয়া 

------------------------------------------------   
Ceriops: ৫টি প্রজাতি গৃহীত, কোনো অমীমাংসিত প্রজাতি নেই
------------------------------------------------  
Ceriops australis (C.T.White) Ballment, T.J.Sm. & J.A.Stoddart (1989)
Ceriops decandra (Griff.) W.Theob. (1860) : ঝামটি গরান, জামটি গরান, জালিয়া গরান, জেলে গরান
Ceriops pseudodecandra Sheue, H.G.Liu, C.C.Tsai & Yuen P.Yang (2010)
Ceriops tagal (Perr.) C.B.Rob. (1908) : মট গরান, মাঠ গরান, মঠ গরান
Ceriops zippeliana Blume (1850) 

------------------------------------------------  
Kandelia: ২টি প্রজাতি গৃহীত, ১টি অমীমাংসিত
------------------------------------------------   
Kandelia candel (L.) Druce (1914) : গুরা, ভাতকাঠি, গোরিয়া, গুরিয়া, রোহিণী
Kandelia obovata Sheue, H.Y. Liu & J. Yong (2003)
Kandelia rheedii Wight & Arn. (1834) [Unresolved]

------------------------------------------------   
Rhizophora: ৬টি প্রজাতি ও একটি সঙ্কর গৃহীত; ১৭টি প্রজাতি, ২টি সঙ্কর ও ১টি জাত অমীমাংসিত
------------------------------------------------  
Rhizophora aegiceras C.F.Gaertn. (1807) [Unresolved] 
Rhizophora aegiceras J.F.Gmel. (1791) [Unresolved]
Rhizophora × annamalayana Kathiresan (1999) [Unresolved
]
Rhizophora apiculata Blume (1827) : ঝানা, ভরাঝানা, তোরা, গর্জন
Rhizophora australis Steud. (1841) [Unresolved]
Rhizophora decandra Roxb. (1814) [Unresolved]
Rhizophora decandra Roxb. ex Griff. (1854) [Unresolved]
Rhizophora eriopetala Steud. (1841) [Unresolved]
Rhizophora glomerulata Zipp. ex Blume (1850) [Unresolved]

Rhizophora × harrisonii Leechm. (1918)
Rhizophora lamarckii Montrouz. (1860) [Unresolved]
Rhizophora latifolia Miq. (1861) [Unresolved]

Rhizophora mangle L. (1753)
Rhizophora mucronata Lam. (1804) : গর্জন, খামু
Rhizophora mucronata var. selala Salvoza (1936) [Unresolved]
Rhizophora obtusa Dennst. (1818) [Unresolved]
Rhizophora pachypoda Baill. (1875) [Unresolved]
Rhizophora parviflora Roxb. (1824) [Unresolved]
Rhizophora pauciflora Griff. (1854) [Unresolved]
Rhizophora polandra Blanco (1837) [Unresolved]

Rhizophora racemosa G.Mey. (1818)
Rhizophora rheedii Steud. (1841) [Unresolved]
Rhizophora rugens Ehrenb. ex Schweinf. (1867) [Unresolved]

Rhizophora samoensis (Hochr.) Salvoza (1936)
Rhizophora selala (Salvoza) Toml. (1978) [Unresolved]
Rhizophora stylosa Griff. (1854)
Rhizophora × tomlinsonii N.C.Duke (2010) [Unresolved]

গৃহীত ও অমীমাংসিত সকল প্রজাতি (species), সঙ্কর (hybrid), উপ-প্রজাতি (sub-species) ও জাত (variety) ও হিসাবে ধরলে মোট মূখ্যবাদা উদ্ভিদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৬। এর মধ্যে ৭৫টি প্রজাতি, ৭টি সঙ্কর, ২টি উপ-প্রজাতি ও ২টি জাত। অমীমাংসিত প্রজাতি, উপ-প্রজাতি, সঙ্কর ও জাত ব্যতীত মূখ্যবাদা উদ্ভিদের সংখ্যা ৪৩ যার মধ্যে ৩৭টি প্রজাতি, ৩টি সঙ্কর, ২টি উপ-প্রজাতি ও ১টি জাত। অর্থাৎ, এখনও পর্যন্ত ৩৮টি প্রজাতি, ৪টি সঙ্কর ও ১টি জাত চিহ্নিত হয়েছে কিন্তু উদ্ভিদবিদগণ নিশ্চিতভাবে গ্রহণ করতে পারেননি।

তথ্যসূত্র
------------------------------------------------ 
Ahmed, Z.U., Hassan, M.A., Begum, Z.N.T., Khondker, M., Kabir, S.M.H., Ahmad, M. and Ahmed, A.T.A (eds.). (2009). Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh. Asiatic Society of Bangladesh. Dhaka: August 2009 
জানা, দেবপ্রসাদ (সম্পা.). (২০১৬). শ্রীখণ্ড সুন্দরবন. দীপ প্রকাশন. কলকাতা : জানুয়ারি ২০১৬
The Plant List (retrieved on 11 August 2017) 
Tomlinson, P.B. (1986). The Botany of Mangroves. Cambridge University Press. New York.
Wikipedia. Mangrove (retrieved on 11 August 2017)

প্রদায়ক
------------------------------------------------ 
হাসান মেহেদী

Wednesday, 16 November 2016

Acrostichum aureum (হুদো)

হুদোর ইংরেজি নাম Mangrove Fern, Golden Leather Fern বা Swamp Fern। তবে সবথেকে পরিচিত ইংরেজি নাম Tiger Fern, কেননা হুদোবনের ভেতরে বাঘ লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। সুন্দরবনের ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম হয় না। এর বৈজ্ঞানিক নাম Acrostichum aureum (অ্যাক্রোস্টিকাম উরিয়াম) যার অর্থ সারিবদ্ধ গুঁটিবিশিষ্ট সোনালি পাতার গাছ। চকচকে সোনালি রঙের প্রায় ছয় ফুট লম্বা পাতাগুলোই হয়ে উঠেছে হুদোর মূল পরিচয়।
এটি একটি দানবীয় আকারের ফার্ন যা উপকূলবর্তী অঞ্চলে বিশষত লবণাক্ত এলাকায় জন্মায়। এক একটা হুদোগাছ ৪ মিটার বা (১৩ ফুট) পর‌্যন্ত লম্বা হয়। এটি একটি গৌণবাদা (Minor Mangrove) অর্থাৎ এটা সাধারণত বাদা অঞ্চলে জন্মায় তবে বাদাবনের পার্শ্ববর্তী বা উপকূলীয় অঞ্চলে জন্মাতে পারে। কারো কারো মতে এটি বাদা সহযোগী (Mangrove Associate) গাছ। বনজীবীরা হুদোর কচি পাতা শাক হিশেবে ব্যবহার করেন। গরু-ছাগল ও হরিণও এর পাতা পছন্দ করে। শরীরের পোড়া বা ছড়ে যাওয়া স্থানে হুদোর গুঁটি বেটে লাগালে উপশম হয়। এর পাতার রস রক্ত বন্ধ করতে সাহায্য করে।

বিবরণ (Description of the Species)

হুদো একটি ফার্নজাতীয় বাদাগাছ। কোনো কোনো উদ্ভিদবিদ একে গুল্মের শ্রেণিভূক্তও করেন। এটি চিরসবুজ ও দ্রুতবর্ধনশীল ফার্ন যা ৪ মিটার পর‌্যন্ত লম্বা হয়। উদ্ভিদের কাণ্ড গ্রন্থিকন্দযুক্ত, খাড়া ও দৃঢ়। কাণ্ডটি নিচের দিকে ব্যাস ৪ সেমি ও ওপরের দিকে ক্রমশ সরু। পক্ষযুক্ত পাতা হয় যা পত্রদণ্ডসহ ৩-৪ মিটার পর‌্যন্ত লম্বা হয়। সবুজ রঙের পাতাগুলো চওড়া, চকচকে। নারকেল পাতার মতো পাতার মধ্যশিরার দু’পাশে পত্রপল্লব আছে। সবচাইতে উপরের পাতাটি বৃন্তহীন হয়। উদ্ভিদবিদ্যায় ফার্নের পাতাগুলোকে বলা হয় পত্রক বা ফ্রন্ড (frond) [1].
হুদো অত্যন্ত আগ্রাসী প্রজাতি এবং অন্য প্রজাতির জন্য ক্ষতিকর। তবু বাদাবনে এই ফার্নগুলোর প্রয়োজনীয়তা বহু। প্রথমত এরা ঝড়ঝঞ্ঝা ও ঢেউয়ের কবল থেকে বাদাবনের অন্যান্য প্রজাতিগুলো রক্ষা করে। নদীর পাড়ে পলি ধরে ভাঙন ঠেকিয়ে দেয় ও বাদাবনের এলাকা বাড়ায়। হুদোবন এগিয়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যায় অন্যান্য গাছও। নদীতে স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা অন্যান্য বাদা প্রজাতির গাছপালার বীজ আটকে যায় হুদোবনের সঙ্গে, আর সেখানেই অঙ্কুরিত হয় নতুন আরেকটি গাছ। এছাড়া বাঘের আবাসনের জন্য হুদোর কোনো বিকল্প নেই।
হুদোর বংশবিস্তারের পদ্ধতিটি অন্য সাধারণ গাছের মতো নয়, বরং একটু জটিল। এদের কোনো বীজ বা ফল হয় না। পত্রফলকগুলোর পঞ্চম থেকে অষ্টম উপফলকের নীচে সারিবদ্ধভাবে সোরাস (sorus) বা গুঁটি তৈরি করে যা আসলে থলের মতো। এই থলের মধ্যে দলবদ্ধ রেণু থাকে। থলেটি রেণুগুলোর একটি আবরণের কাজ করে[2]। নির্দিষ্ট সময় পর হুদোর পাতা মরে স্যাঁতসেঁতে মাটির উপর পড়লে থলে ফেটে রেণুগুলো মাটির সংস্পর্শে আসে। রেণুগুলো অঙ্কুরিত হয়ে একটি উদ্ভিদের লিঙ্গধর রূপ (Prothallus) তৈরি করে। গাছের ছাল, বাকল বা শক্ত কিছুর সাথে আটকে থাকার জন্য এই প্রোথেলাসগুলোর এককোষী রোম থাকে। প্রোথেলাসগুলো স্বাবলম্বী এবং সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে। প্রোথেলাসের পুরুষ ও স্ত্রী জননাঙ্গ থাকে। জননাঙ্গের কোষের মিলনের ফলে রেণু থেকে উদ্ভিদ জন্মায়[3]
প্রজাতির নাম (Name of the Species): Acrostichum aureum
বর্গ (Order): Polypodiales
পরিবার (Family): Pteridaceae
গণ (Genus): Acrostichum
প্রজাতি (Species): A. aureum
দ্বিপদী নাম (Binominal Name): Acrostichum aureum L.
সমনাম (Synonyms): Acrostichum guineense Gaudich., Acrostichum inaequale Willd., Chrysodium aureum (L.) Mett., Chrysodium inaequale (Willd.) Fée
উদ্ভিদের ধরন (Type of Plant): ফার্ন
বসতি (Habitat): উপকূলীয় বাদাবন, নদীর পাড় ও কর্দমাক্ত জলাভূমি
বাদাগাছের ধরন (Type of Mangrove): বাদা সহযোগী
পাতার ধরন (Type of Leaves): যৌগিক ও একান্তর পাতা
ফুলের ধরন (Type of Flower): কোনো ফুল ও ফল নেই
সংরক্ষণ পরিস্থিতি (Conservation Status): সঙ্কটাপন্ন নয় 

আবাসস্থল (Description of Habitat)

মোহনার কাছাকাছি এলাকা থেকে শুরু করে জোয়ারভাটা প্রভাবিত উঁচু এলাকাতেও হুদো জন্মাতে পারে। পরিবেশের ক্ষেত্রে হুদো সর্বভূক প্রাণীর মতো। নোনামাটিতে যেমন জন্মায় তেমনি জন্মাতে পারে স্বাদুপানির এলাকায়ও[4]। বর্ধনশীল লবণাক্ততার বাদাবনে, নোনা জলাভূমিতে ও নদীর পাড়ে এটি জন্মাতে পারে। তবে স্বাদুপানিতেই হুদোর স্পোরগুলোর ভালো পরিস্ফূটন হয়। তাইতো অন্য কোনো বাদাগাছ ইউরোপে না জন্মালেও হুদো পাওয়া যায় ফ্রান্সেও। হুদোর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, পূর্ণ সূর‌্যালোকে যেমন টিকে থাকতে পারে, তেমনি পুরোপুরি ছায়া জায়গায়ও তেমন কোনো অসুবিধা হয় না।
জলাভূমিতে হুদোগাছ লম্বায় ১৩ ফুট পর‌্যন্ত হয় তবে একটু হেলে থাকে। প্লাবনপ্রবণ এলাকার এরা একটু খাড়া হয়ে থাকে। বাদা এলাকায় জন্মানো অন্যান্য উদ্ভিদের মতো হুদোও ভীষণ কষ্ট সহ্য করে সবথেকে নাজুক পরিবেশেও শুধু টিকে থাকতে পারে তাই-ই না, বরং দ্রুত চার হাত পা ছড়িয়ে বাচ্চাকাচ্চা জন্ম দিয়ে নতুন নতুন এলাকাও দখল নিতে পারে। এজন্য একে সুযোগসন্ধানী ও আগ্রাসী বললেও রাগ করার কথা না।
গর্জন (Rhizophora mucronata) হলো অনেকটা হুদোর পৃষ্ঠপোষকের মতো। গর্জন পানি শোষণ করে যে জায়গা বালুময় করে তোলে সেখানে হুদো খুব ভালো জন্মাতে পারে[5]। সাধারণত গেওয়া (Excoecaria agallocha), হেতাল (Phoenix paludosa), ঝামটি গরান (Ceriops decandra) ও মথ গরান (Ceriops tagal)-এর সাথে বসতি ভাগাভাগি করে হুদো জন্মাতে পারে[6]। 

পরিব্যাপ্তি (Distribution)

হুদো প্রধানত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে জন্মায়[7]। বাংলাদেশ ছাড়াও অ্যাংগোলা, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, অস্ট্রেলিয়া, বাহামা দ্বীপপুঞ্জ, বার্বাডোজ, বেলিজ, বেনিন, ব্রাজিল, ব্রুনেই, ক্যামেরুন, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ, কলাম্বিয়া, কমরোস, কংগো, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, কোস্টারিকা, আইভরি কোস্ট, কিউবা, ডোমিনিকা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, ইক্যুয়েটোরিয়াল গিনি, ফ্রান্স, গ্যাবন, গাম্বিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, গিনি বিসাউ, গায়ানা, হাইতি, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জ্যামাইকা, কেনিয়া, লাইবেরিয়া, মাদাগাস্কার, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মার্টিনিক, মায়োতি, মেক্সিকো, মন্টসেরাট, মোজাম্বিক, মায়ানমার, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পালাউ, পানামা, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন, পুয়ের্তেরিকো, সেন্ট কিটস্ অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড গ্রেনাডাইন, সাও তোমে, সেনেগাল, সিসিলেস, সিয়েরা লিওন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ফ্লোরিডা), ভেনেজুয়েলা, বলিভিয়া, ভিয়েতনাম ও ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে হুদো পাওয়া যায়[8]
হুদোর আরো দুটো প্রজাতি আছে যারা বাদা-প্রভাবিত এলাকায় জন্মায়। এদের একটি Acrostichum danaeifolium ও অপরটি Acrostichum speciosum। এ দুটোর একটিও বাংলাদেশে জন্মায় না। তবে ভূতপূর্ব Acrostichum পরিবারের আরো দশজন সদস্যকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়। এরা হলো : Acrostichum axillare (গৃহীত নাম : Leptochilus axillare, স্থানীয় নাম জানা নেই), Acrostichum calomelanos (গৃহীত নাম : Pityrogramma calomelanos, সোনালি ঢেকিয়া, রূপালি ঢেকিয়া), Acrostichum crispatulam (গৃহীত নাম : Bolbitis crispatula, ঢেকিয়া বা অচিন ঢেকিয়া), Acrostichum dichotomum (গৃহীত নাম : Schizaea digitata, স্থানীয় নাম জানা নেই), Acrostichum heteroclitum (গৃহীত নাম : Bolbitis heteroclitum, ঢেকিয়া বা অচিন ঢেকিয়া), Acrostichum lanceolatum (গৃহীত নাম : Pyrrosia lanceolatum, স্থানীয় নাম জানা নেই), Acrostichum punctatum (গৃহীত নাম : Microsorum punctatum, গুছাপত্র), Acrostichum sinensis (গৃহীত নাম : Bolbitis sinensis, ঢেকিয়া বা অচিন ঢেকিয়া), Acrostichum thalictroides (গৃহীত নাম : Ceratopteris thalictroides, পানি ঢেকিয়া) ও Acrostichum virens (গৃহীত নাম : Bolbitis virens, ঢেকিয়া বা অচিন ঢেকিয়া)। তবে এ ফার্নগুলোর একটিও বাদাবন বা বাদা পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। 

বৈজ্ঞানিক নাম ও সমনাম (Scientific Name and Synonyms)

Acrostichum কথাটি এসেছে গ্রীক শব্দ akrostichis থেকে যার অর্থ হলো সুবিন্যস্ত ও সারিবদ্ধভাবে সাজানো। পত্রফলকের নিচে সারিবদ্ধভাবে সাজানো স্পোর বা গুঁটিগুলোর জন্যই এমন নাম। অনেক সময়ই পরিবারের নাম দেয়া হয় কোনো ব্যক্তি বা স্থানের প্রতি সম্মান জানিয়ে। Acrostichum পরিবারের নাম যথার্থই হয়েছে বলতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য হলো, যেসব কবিতার প্রত্যেক পংক্তির প্রথম বা শেষ হরফ মিলিয়ে কোনো নাম বা অন্য শব্দ-বাক্য তৈরি হয় তাকে Acrostic কবিতা বলে। Aureum শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Aureus-এর উভলিঙ্গ যার অর্থ ‘সোনালি’। এই সূত্রমতে Acrostichum aureum অর্থ দাঁড়ায় সারিবদ্ধ গুঁটিবিশিষ্ট সোনালি পাতার গাছ।
Acrostichum Aureum প্রথম চিহ্নিত করেন সুইডেনের উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও দার্শনিক কার্ল ভন লিনে বা কার্ল লিনিয়াস (Carl Linnaeus)। এ কারণেই হুদোর বৈজ্ঞানিক নামের পর ‘এল’ (L.) লেখা রয়েছে। তাহলে হুদো’র পুরো নাম হবে Acrostichum Aureum L. 1758 অথবা Acrostichum aureum Linnaeus, 1758।

স্থানীয় নাম (Local Names)

হুদো অস্ট্রেলিয়ায় Mangrove Fern নামে পরিচিত। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হুদো (Hudo) এবং ইংরেজিতে Golden Leather Fern, Leather Fern বা Swamp Fern বলা হয়[9]। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় হাতা দিউক (Hata Diuk), কালা কেওক (Kala Keok) বা ক্রাকাস (Krakas); ফিলিপাইনে পালাপায় (Palaypay) বা লাগোলো (Lagolo); মালয়েশিয়ায় লাউট (Laut) বা পিয়াই রায়া (Piai Raya); সিঙ্গাপুরে পাকু লাউট (Paku Laut); শ্রীলংকায় কারামকোকু (Karamkoku)[10]; উড়িয়াতে খড়খড়ি (Kharkhari) এবং ভিয়েতনামে ব্রোং (Brong) নামে পরিচিত।

সংরক্ষণ পরিস্থিতি (Status of Conservation)

আইইউসিএন বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় (IUCN Red List) হুদো ‘আশঙ্কামুক্ত’ (Least Concern) হিশেবে চিহ্নিত। এই প্রজাতিটি কোনো প্রকার হুমকির মুখে নয় বলে আইইউসিএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বাদাবনের আয়তন কমে যাওয়া এ প্রজাতির জন্য একটি হুমকি। পৃথিবীজুড়ে হুদো প্রজাতিটি রক্ষায় কোনো প্রকার উদ্যোগের কথা জানা যায় নি[13]

অধিকতর পাঠ (See Also)

  1. Acrostichum danaeifolium
  2. Acrostichum speciosum
  3. Carl Linnaeus
  4. উচ্চ লবণাক্ততা (Hyper Salinity)
  5. উদ্ভিদবিজ্ঞানী

সংশ্লিষ্ট উপকরণ (External Links)

  1. Customary Use of Mangrove Tree as a Folk Medicine among the Sundarbans Resource Collectors
  2. Global Forest Resources Assessment 2010: Country Reports - Bangladesh
  3. Medicinal and Aromatic Plants as Global Resources
  4. The Undergrowth Species of Sundarban Mangrove Ecosystem (Bangladesh)
  5. World Atlas of Mangroves 2014

প্রদায়ক (Contributor)

হাসান মেহেদী

তথ্যসূত্র (References)

[1] NUS (2015). Guide to the mangroves of Singapore: Piai raya (Acrostichum aureum).Mangroves of Singapore (Vol I-II). National University of Singapore. Retrieved from http://mangrove.nus.edu.sg/guideboo... on 6 November 2016
[2] পাল, নিশীথ কুমার (২০১৫). উদ্ভিদবিজ্ঞান শব্দকোষ. অন্বেষা প্রকাশন. ঢাকা : ফেব্রুয়ারি ২০১৫
[3] Mirza, M. M. (2009). Acrostichum aureum. In Ahmed, Z.U., Begum, Z.N.T, Hassan, M.A., Khondker, M., Kabir, S.M.H., Ahmed, M., and Ahmed, A.T.A (eds). Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh, Vol. 5. Broyophytes, Pteridophytes and Gymnosperm. Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka. p 283: September 2009
[4] IUCN (2010). IUCN Red List: Acrostichum aureum. Ellison, J., Koedam, N.E., Wang, Y., Primavera, J., Jin Eong, O., Wan-Hong Yong, J. & Ngoc Nam, V. (eds.). International Union for Conservation. Retrieved from http://www.iucnredlist.org/details/... on 5 November 2016
[5] Hill, K. (2006). "Acrostichum aureum: Golden leather fern". Smithsonian Marine Station at Fort Pierce. Retrieved from http://www.sms.si.edu/irlspec/acros... on 5 November 2016
[6] Mahmood, H. (2015). Handbook on selected plant and species of the Sundarbans and the embankment ecosystem. Sustainable Development and Biodiversity Conservation in Coastal Protection Forests, Bangladesh (SDBC-Sundarbans) Project implemented by the Deutsche Gesellschaft fur Internationale Zusammenarbeit (GIZ) GmBH on behalf of the German Federal Ministry for Economic Cooperation and Development (BMZ). Dhaka: September 2015
[7] Wikipedia (2016). Acrostichum aureum. Retrieved from https://en.wikipedia.org/wiki/Acros... on 5 November 2016
[8] IUCN (2010). ibid
[9]http://eol.org/pages/597691/names
[10]http://www.instituteofayurveda.org/...
[11] Singapore Government (2016). Acrostichum aureum. National Parks Flora and Fauna Web. Retrieved from https://florafaunaweb.nparks.gov.sg/... on 6 November 2016
[12] Stuart Exchange (2016). Lagolo (Acrostichum aureum). Retrieved from http://www.stuartxchange.org/Lagolo... accessed on 6 November 2016
[13]http://www.iucnredlist.org/details/...

Tuesday, 12 April 2016

Ceriops decandra (ঝামটি গরান)

Ceriops decandra
ঝামটি গরানের বৈজ্ঞানিক নাম Ceriops decandra। গ্রীক শব্দ Decandra’র অর্থ ‘দশজন পুরুষ’। এটিকে বাংলায় জাইলা গরান, গুট্টিয়া বা গুটাইয়াও বলা হয়। ঝামটি গরানের ফুলে ১০ থেকে ১২টি পুংকেশর থাকে বলেই হয়তো দ্বিপদী নামে Decandra শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে [১]। বাদাগাছের যতোগুলো মূখ্য প্রজাতি আছে গরান তার মধ্যে অন্যতম। এ গাছের ফুল থেকে অনেক মধু পাওয়া যায়। গন্ধ ও স্বাদের কারণে গরান ও খলসি (Aegiceras corniculatum) ফুলের মধুর সুখ্যাতি আছে।

ঝামটি গরান একটি ছোট গাছ বা গুল্ম। কয়েকটি গরান গাছ গাদাগাদি করে জন্মায় বলে বনজীবীরা ‘গরানের ঝাড়’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। একহারা লম্বা ঝামটি গরানের কাণ্ড উপকূলীয় এলাকায় ঘরের বারান্দার খুঁটি, চালের কাঠামো বা জ্বালানি কাঠের কাজে ব্যবহার করে থাকেন [২]

Ceriops decandra
বিবরণ
ঝামটি গরান একটি চিরসবুজ, মাঝারি আকৃতির, সরু, সোজা, ধীর বর্ধনশীল ও বহুবর্ষজীবী গুল্ম যা মাত্র ১.৫ থেকে ৪ মিটার লম্বা হয়। গাছের চারদিক ছড়িয়ে সরু ডালপালা হয়। কাণ্ডটাও সরু। সরু হলে কী হবে, ঝামটি গরান গাছের কাণ্ড কিন্তু খুবই শক্ত এবং নোনাপানিতে টিকে থাকার জন্য প্রচুর কার্বন ধরে রাখে। এ কারণে এ গাছের কাঠ বহু বছর নষ্ট হয় না। কাদা ও নোনাপানির মধ্যে বেড়ে উঠতে হয় বলে ঝামটি গরান গাছের চারপাশে অসংখ্য ঠেসমূল (stilt-root) থাকে। ঠেসমূলগুলোর গায়ে আবার বাতাস নেয়ার জন্য থাকে বায়ুমূল। মূল মাটির গভীরে প্রবেশ করে না। ঠেসমূলগুলো এমনভাবে থাকে যেন মনে হয়, ঠেসমূল একত্রিত হয়েই গাছটার জন্ম হয়েছে।

ঝামটি গরানের পাতা ৫-১০ সেমি লম্বা ও ২-৫ সেমি চওড়া। দেখতে অনেকটা ডিম্বাকার। পাতার গোড়ার দিকটা সরু এবং অগ্রভাগ গোলাকার তবে অগ্রভাগে খাঁজ আছে। অন্যান্য লাল ও কালোবাদা গাছের মতো ঝামটি গরানের পাতাও একটু পুরু কারণ লবণ-সহনশীল এসব গাছের প্রস্বেদনে প্রচুর শক্তিব্যয় করতে হয়। প্রস্বেদনের মাধ্যমে এ গাছ নিজের শরীর থেকে লবণ ছেঁকে ফেলে দেয়। সে কারণে ঝামটি গরানের পাতার তলদেশে শাদা রঙের লবণ দেখতে পাওয়া যায়। ঝামটি গরানের ফুল ছোট ও সুগন্ধময়। ফুলগুলো ০.৫ সেমি’র চেয়ে বড় হয় না [৩]। ফুল উভয়লিঙ্গ অর্থাৎ স্বপরাগায়নে সক্ষম। ফুল থেকে বাদামি রঙের ১.৫-২.০ সেমি মোচাকৃতির ফল হয়। ফলে একটিই মাত্র বীজ থাকে। এ গাছের ফুল থেকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদ্গম হয় অর্থাৎ ফুল থেকে যে ফল হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই অঙ্কুরোদ্গম ঘটে যা জরায়ুজ অঙ্কুর (Propagule) নামে পরিচিত।

অনেক সময় অঙ্কুরটি গাছে থাকতেই শেকড় জন্মায়। ১০-১২ সেমি লম্বা অঙ্কুরটি মাঝখানে একটু মোটা হলেও প্রান্তভাগ সরু। এর ফলে গাছ থেকে অঙ্কুরটি খাড়া হয়ে মাটিতে পড়ে। এ গাছটি জন্মানোর স্থান যেহেতু কাদাময়, সেহেতু অঙ্কুরগুলো সোজা মাটিতে ঢুকে যায় এবং পলিবাহিত ঊর্বর মাটিতে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে। এছাড়া এ অঙ্কুরগুলো খুবই হালকা। জোয়ার-ভাটার পানিতে পড়ে ভাসতে ভাসতে চলে যায় আরেক চর বা দ্বীপে। উপযুক্ত পরিবেশ পেলেই সেখানে নিজের অস্তিত্ব জানান দেয় [৪]

বর্গ : Malpighiales, পরিবার : Rhizophoraceae, গণ : Ceriops, প্রজাতি : C. decandra
দ্বিপদী নাম : Ceriops decandra (Griff.) Ding Hou
সমনাম : Bruguiera decandra Griff., Ceriops candolleana Náves, Ceriops roxburghiana Arn.
উদ্ভিদের ধরন : চিরসবুজ গুল্ম (Evergreen Shrub)
আবাসস্থল : লবণাক্ত উপকূলের তুলনামূলকভাবে উঁচু ও অনিয়মিত প্লাবিত এলাকা
বাদাগাছের ধরন : মূখ্যবাদা, কালোবাদা
পাতার ধরন : সরল, প্রতিমুখ ও ডিম্বাকার, ৫-১০ সেমি লম্বা
ফুলের ধরন : ৫-৬টি পাপড়ি ও বৃত্যাংশ, ০.৫ সেমি দীর্ঘ
ফুল ও ফলের সময় : মার্চ থেকে মে পর‌্যন্ত ফূল ফোটে এবং এপ্রিল থেকে জুলাই পর‌্যন্ত ফল পাওয়া যায়
সংরক্ষণ পরিস্থিতি : প্রায় বিপদাপন্ন

আবাসস্থল
ঝামটি গরান পরিমিত থেকে উচ্চ লবণাক্ততা পর‌্যন্ত সব পর‌্যায়ের লবণাক্ততায় জন্মাতে ও বেড়ে উঠতে পারে। এ প্রজাতির গাছ অল্প জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে বলে সাধারণত তুলনামূলকভাবে উঁচু ভূমিতে জন্মায়। এ গাছের বসতি সুন্দরী গাছের বসতি এলাকার মতো পুরোপুরি শুকনো নয়, বরং ভেজা ও কাদায় ভরা। সাধারণত হরগজা (Acanthus ilicifolius), গেওয়া (Excoecaria agallocha), সুন্দরী (Heritiera fomes), গুরা বা রোহিণী (Kandelia candel) ও কেওড়া (Sonneratia apetala) গাছের সাথে বসতি ভাগাভাগি করে ঝামটি গরান গাছ জন্মায়

পরিব্যাপ্তি
অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ব্রুনেই দারুসসালাম, কম্বোডিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপাইন, মাদাগাস্কার, মালয়েশিয়া, মায়ানমার (বার্মা), সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের বাদাবন এলাকায় ঝামটি গরান গাছ পাওয়া যায়। সারা পৃথিবীতে গরান-আবৃত এলাকার আয়তন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বর্গ কিমি। সুন্দরবন ছাড়াও বাংলাদেশের বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরের উপকূলীয় এলাকায় এ গাছ পাওয়া যায় [৫]
Ceriops decandra


বৈজ্ঞানিক নাম ও সমনাম
ঝামটি গরানের বৈজ্ঞানিক নাম Ceriops decandra প্রথম চিহ্নিত করেন ব্রিটিশ ডাক্তার, নিসর্গী ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী উইলিয়াম গ্রিফিথ (William Griffith) যাঁকে সংক্ষেপে Griff. নামে ডাকা হয়। গ্রিফিথের উদ্ভিদতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের সূত্র ধরে ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত ওলন্দাজ উদ্ভিদবিজ্ঞানী Ding Hou (1921-2008) এ নামকরণ করেন। Ceriops decandra-এর পুরো নাম হবে Ceriops decandra (Griff.) Ding Hou। এর অন্যান্য সমনামের মধ্যে রয়েছে: Bruguiera decandra Griff., Ceriops candolleana Náves ও Ceriops roxburghiana Arn. গরানের ৪টি প্রজাতি সারা পৃথিবীতে পাওয়া যায়। সেগুলো হলো : Ceriops australis, Ceriops decandra, Ceriops tagalCeriops zippeliana। এর মধ্যে বাংলাদেশে শুধুমাত্র Ceriops decandraCeriops tagal পাওয়া যায়। Ceriops tagal স্থানীয় জনসাধারণের কাছে মটগরান নামে পরিচিত।

স্থানীয় নাম
বাংলাদেশে ও ভারতে বাংলায় Ceriops decandra গরান, ঝামটি গরান বা জাইলা গরান নামেই পরিচিত। এছাড়া গুট্টিয়া বা গুটাইয়াও বলা হয়। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় Flat-Leaf Spurred Mangrove, ব্রুনেই, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে টেঙ্গার (Tengar), কম্বোডিয়ায় স্মায়ে (Smae), ইংরেজিতে Spur Mangrove, Indian Mangrove বা Tagal Mangrove, ইন্দোনেশিয়ায় টেঙ্গার, পালুন বা বিডো-বিডো (Tengar, Palun or Bido-Bido), ফিলিপাইনে বারাস-বারাস (Baras-Baras) ও মালাটাঙ্গাল (Malatangal), মায়ানমারে (বার্মা) কা পেয়েং (Ka-Pyaing), ওড়িয়া ভাষায় গরানি বা গরলাহ (Garani or Garlah), সিংহলিজ (শ্রীলঙ্কা) ভাষায় কাদোল (Kadol), তামিল ভাষায় চিরু কান্দাল (Chiru Kandal), তেলেগুতে গাথারু (Gatharu), থাইল্যান্ডে কাপুলং, প্রংখাও বা সামায় মানোহ (Kapuulong, Prong Khaao or Samae Manoh) এবং ভিয়েতনামে জ্বা বা মাইরসর (Dza or Smairsor) বলা হয় [৬]

ব্যবহার
ঝামটি গরানের কাণ্ড সরু হলেও মজবুত। এ কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলীয় এলাকায় সাধারণ বাড়িঘরে বারান্দার খুঁটির জন্য এ গাছের কাণ্ড ব্যবহারের প্রচলন আছে। বর্ষা-কাদায় নষ্ট হয় না বলে এ গাছের কাণ্ড দিয়ে ঘরের চালের কাঠামো খুবই ভালো হয়। ছোট নৌকার কাঠামো (পাঁজরা) তৈরিতেও ঝামটি গরানের কাণ্ড ব্যবহার করা হয়। এছাড়া কাঠি, লাঠি, ও জ্বালানি হিশেবেও এ গাছ ও ডালপালার ব্যবহার আছে। গরানের কাঠ পুড়িয়ে ভালো মানের কয়লা তৈরি হয়। জেলেরা খাল বা চরের চারদিকে জালের ঘেরা দেয়ার জন্য এ গাছের কাণ্ড ব্যবহার করে বলে নাম হয়েছে জালিয়া গরান।

দুই ধরনের গরানের মধুই সুগন্ধী, অত্যন্ত সুস্বাদু ও ভেষজ গুণসম্পন্ন। এজন্য বনজ মধুর মধ্যে গরানের মধুর চাহিদা ব্যাপক। ঝামটি গরানের বাকল ট্যানিনের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। মাছ ধরার জাল পাকা করতে এর ব্যাপক ব্যবহার আছে। উপকূলীয় জেলেরা গরানের ছাল (বাকল) পানির জালার মধ্যে ভিজিয়ে বাকলের কষ বের করতো। তারপর কষ জ্বাল দিয়ে তৈরি হতো জালের সুতো শক্ত করার উপকরণ। গরানের বাকলের রস থেকে কালো রঙ উৎপন্ন হয় যা পোশাকশিল্পে ব্যবহৃত [৭]

প্রাচীনকাল থেকেই প্রথাগত চিকিৎসায় ঝামটি গরানের ব্যবহার আছে। বাকলের রস রক্ত পড়া বন্ধ করে। বাকলের রসের ক্বাথ রক্তস্রাব চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। চর্মরোগ, কুষ্ঠ ও ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় পাতার ব্যবহার আছে।

সংরক্ষণ পরিস্থিতি
আইইউসিএন বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় (IUCN Red List) ঝামটি গরান ‘প্রায় বিপদাপন্ন’ (Near Threatened) হিশেবে চিহ্নিত। পুরোপুরি সঠিক হার না জানা গেলেও ১৯৮০ থেকে ২০০০ সাল - এই ২০ বছরে ঝামটি গরান-আবৃত বাদাবনের পরিমান ১২-২০ শতাংশ কমে গেছে। তিন প্রজন্মের (১২০ বছর) সঠিক উপাত্ত পাওয়া গেলে নিশ্চিতভাবেই এ প্রজাতিটি ‘বিপদাপন্ন’ তালিকার অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে [৮]। সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণা করা ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশেই ঝামটি গরান সংরক্ষণে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেই। ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে বনজ সম্পদ হিশেবে অন্যান্য গাছের সঙ্গে গরান গাছের সংগ্রহ ও ব্যবহারের অনুমোদন প্রত্যাহার করা হয়েছে। স্ববসতিতে রক্ষা করার জন্য আরো কার‌্যকর কর্মসূচি নেয়া দরকার।

অধিকতর পাঠ
Ceriops australis, Ceriops zippeliana, উইলিয়াম গ্রিফিথ (William Griffith), উচ্চ লবণাক্ততা (Hyper Salinity), উদ্ভিদবিজ্ঞানী, জরায়ুজ অঙ্কুর (Propagule), ঠেসমূল (stilt-root), ডিং হৌ (Ding Hou), মটগরান (Ceriops tagal)


সংশ্লিষ্ট উপকরণ
- Customary Use of Mangrove Tree as a Folk Medicine among the Sundarbans Resource Collectors
- Global Forest Resources Assessment 2010: Country Reports - Bangladesh
- Medicinal and Aromatic Plants as Global Resources
- The Undergrowth Species of Sundarban Mangrove Ecosystem (Bangladesh)
- World Atlas of Mangroves 2010

তথ্যসূত্র 
(১) https://en.wikipedia.org/wiki/Ceriops_decandra
(২) হোসেন, মাহমুদ (২০১৫). সুন্দরবন বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বৃক্ষ পরিচিতি. জিআইজেড. ঢাকা : সেপ্টেম্বর ২০১৫. পৃ. ৩৬
(৩) http://eol.org/pages/3062587/overview
(৪) http://ecocrop.fao.org/ecocrop/srv/en/cropView?id=4434
(৫) http://amap-collaboratif.cirad.fr/pages_logiciels/Mangrove_web/especes/c/cerde/cerde.html
(৬) Ceriops decandra (Griff.) Ding Hou: http://globinmed.com/index.php?option=com_content&view=article&id=79163:ceriops-decandra-griffith-ding-hou&catid=367:c
(৭) রহমান, এম অলিউর (২০০৯). Ceriops decandra. In Ahmed, Z.U., Hassan, M.A., Begum, Z.N.T., Khondker, M., Kabir, S.M.H., Ahmad, M. and Ahmed, A.T.A (eds.). Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh, Vol. 10. Angiosperms: Dicotyledons (Balsaminaceae-Euphorbiaceae). Asiatic Society of Bangladesh. Dhaka. pp. 20-21
(৮) http://www.iucnredlist.org/details/178853/0


প্রদায়ক

Hasan Mehedi, Taposh BaruaKhasru Chowdhury

Saturday, 9 April 2016

Caesalpinia bonduc (নাটা)

Caesalpinia bonduc
নাটা (Caesalpinia bonduc) গাছটিকে ইংরেজিতে গ্রে নিকার (Gray Nicker) বলে ডাকা হয়। সম্ভবত ওলন্দাজ শব্দ নিক্কার (knikker) থেকে ক্যারিবীয় nicker শব্দটা এসেছে যার অর্থ ‘কাদার গুঁটি’। ক্যারিবীয় অঞ্চলে ষোলগুঁটি বা আটগুঁটি খেলার মতো ওয়ারে (oware) নামক একটি পারিবারিক খেলায় গুঁটি হিশেবে নাটার বীজ ব্যবহৃত হয়। ধারণা করা হয়, এ কারণেই নাটার নাম ইংরেজিতে গ্রে নিকার হয়েছে। এটা একটা বাদা সহযোগী বা Mangrove Associate গাছ (১)। অর্থাৎ এই প্রজাতিটি বাদাবনের বাইরে মাঝারি লবণাক্ত পরিবেশে জন্মাতে পারে। মাঝারি মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে বলে এ গাছটিকে ‘কালোবাদা’ বা Black Mangrove-এর অন্তর্ভূক্ত করা হয় (২)। নাটা প্রধানত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের উপকূল ও উপকূলবর্তী অঞ্চলে জন্মায়। তবে, বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গাতেই নাটাগাছ দেখা যায়। এই গণের আরেকটি গাছ কুটুমকাঁটা বা Caesalpinia cristaও বাদাবনে (Mangrove Forest) পাওয়া যায়।

বিবরণ
-----------------------------
নাটাগাছ একটি বিশৃঙ্খলভাবে বাড়ন্ত গুল্ম বা ঝোপজাতীয় গাছ হলেও কখনও কখনও অন্য গাছের উপর ভর করেও বেড়ে ওঠে। ৫-৬ মিটার উচ্চতার গাছটির ৩০-৫০ সেমি লম্বা শাখায় যৌগিক পাতা হয়। প্রত্যেক একজোড়া পাতার গোড়ায় দুটি করে কাঁটা থাকে। কাঁটাগুলো পেছনমূখী হওয়ায় কোনো প্রাণীর গায়ে লাগলে সহজে ছাড়িয়ে আসতে পারে না। এভাবেই নাটাগাছ নিজ অস্তিত্ব রক্ষা করে। ৬-৭ সেমি লম্বা ও ৩-৪ সেমি চওড়া চ্যাপ্টা ডিম্বাকৃতির ও হালকা সবুজ রঙের ফল হয়। ফলের গায়ে বড়শির মতো অসংখ্য কাঁটা থাকে। নাটার ফল পাকার পর শুকিয়ে ফেটে যায়। হঠাৎ করে এতো জোরে ফাটে যে বীজ গাছ থেকে অন্তত ২ মিটার দূরে গিয়ে পড়ে। এভাবে নাটাগাছ শুধু বংশবিস্তারই করে না, বরং নতুন নতুন এলাকা দখল করে নেয়। নাটার বীজ শালিকের ডিমের চেয়ে কিছুটা ছোট এবং ধূসর রঙের হয়। বংশবিস্তারে এদের দুটো বিরাট সুবিধা আছে, যা অন্যান্য গাছের নেই। প্রথমত, এদের বীজ ধূসর রঙের হওয়ায় সহজে মাটির সঙ্গে মিশে থাকে। ফলে বীজভূক পশুপাখি সহজে নাটার বীজ খুঁজে পায় না। আর দ্বিতীয়ত বীজ অত্যন্ত হালকা বিধায় জোয়ারভাটার স্রোতের সঙ্গে বহুদূর ভেসে যেতে পারে। ১৬৯৩ সালে স্কটল্যান্ডের মন্ত্রী ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী জেমস ওয়ালেস উল্লেখ করেন যে, সামুদ্রিক ঝড় ও স্রোতের সঙ্গে নাটার বীজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের উপকূলে চলে আসে (৩)। ১৭৫১ সালে ডেনমার্কের ইতিহাসবিদ এরিক পন্টোপিড্যানও নরওয়ের উপকূলে এ বীজ ভেসে আসার ঘটনা উল্লেখ করেছেন (৪)।
বর্গ : Fabales; পরিবার : Caesalpiniaceae; গণ : Caesalpinia; প্রজাতি : bonduc
উদ্ভিদের ধরন : গুল্ম বা ঝোপ
বসতি এলাকা : উপকূল বা উপকূলবর্তী ছোট ঝোপবিশিষ্ট জঙ্গল
বাদাগাছের ধরন : বাদা সহযোগী, কালোবাদা।
পাতার ধরন : যৌগিক পাতা, একসঙ্গে ৭-১২ জোড়া পাতা হয়। পাতা ২-৪ সেমি লম্বা, দীর্ঘ ডিম্বাকার। উপপত্র আছে।
ফুলের ধরন : হলদে ফুল হয়। পাঁচটি বৃত্যাংশ বা পাপড়ি থাকে।
ফুল ও ফল ধারণ : জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর অবধি ফুল হয় এবং অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে ফল পেকে যায়।
আবাসস্থল
-----------------------------
উপকূলবর্তী মাঝারি মাত্রার (৫-১৮ পিপিটি) লবণাক্ত পরিবেশে নাটাগাছ জন্মাতে পারে (৫)। এরকম লবণাক্ত পরিবেশকে Mesohaline Zone বলা হয়। সামান্য লবণাক্ত বা লবণাক্ত নয় এমন সাধারণ পরিবেশেও এ গাছ জন্মায়। অনূর্বর বা সামান্য ঊর্বর জমিতেও নাটাগাছ বেড়ে উঠতে পারে। শস্যক্ষেত্রের সীমানা, পথের ধার এবং কখনও কখনও খালি জায়গায় ঘন ঝোপ আকারেও জন্মায়। বাংলাদেশের প্রায় সবখানেই নাটাগাছ দেখা যায়।

পরিব্যাপ্তি
-----------------------------
পুরো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকা জুড়ে নাটাগাছ ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, বার্মা (মিয়ানমার), চীন, কলাম্বিয়া, কমোরোস, কোস্টারিকা, কিউবা, ইথিওপিয়া, ইকুয়েডর, গ্যাবন, গিনি, ঘানা, ভারত, জ্যামাইকা, কেনিয়া, মাদাগাস্কার, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, পেরু, পুয়ের্তে রিকো, সিয়েরা লিওন, সিঙ্গাপুর, সোমোয়া, শ্রীলঙ্কা, তাইওয়ান, তানজানিয়া, টোঙ্গা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামে নাটাগাছ পাওয়া যায়।

বৈজ্ঞানিক নাম ও সমনাম
Caesalpinia bonduc
-----------------------------
নাটা’র বৈজ্ঞানিক নাম Caesalpinia bonduc, নামকরণ করেছেন William Roxburgh যাঁকে সংক্ষেপে Roxb. বলা হয়। তিনি Carl Linnaeus-এর প্রাথমিক শনাক্তিকরণ বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করে ১৮৩২ সালে এ গাছের নামকরণ করেন। নাটার বৈজ্ঞানিক নামের পূর্ণরূপ : Caesalpinia bonduc (L.) Roxb. (1832)। অন্যান্য নামগুলো হলো Bonduc minus Medik., Caesalpinia bonducella (L.) Fleming, Caesalpinia crista L., p.p.a, Caesalpinia cristata Prowazek, Guilandinia bonduc L. ও Guilandinia bonducella L.।

স্থানীয় নাম
-----------------------------
বাংলায় নাটা’র আরো কয়েকটি নাম প্রচলিত আছে। যেমন : কাঁটানাটা, নাটাকরঞ্জ, ঝাগরাগোটা বা লালকান্তা। নাটা গাছটিকে আরবিতে আকিত-মাকিত (akit-makit), অসমীয়তে লেটাগুঁটি (Letaguti), ক্যারিবীয় অঞ্চলে গ্রে নিকার (Gray Nicker), ইংরেজিতে Gray Nicker, Nicker Nut, Indian Nut, Benzoar Nut, Nickar Bean বা Physic Nut, ফারসিতে খায়াহে-ই-ইবলিস (khayahe-i-iblis), জার্মান ভাষায় কুগেলস্ট্রস (Kugelstrauch), হিন্দিতে কাঠকরঞ্জ (Kat Karanj), ইন্দোনেশিয়ায় আরেউজ (Areuj), আরুক (Aruk), বাগোরে (Bagoré), কানিকের (Kaniker) ও কুটুক (Kutuk), কানাড়ায়, গেজ্জুগা (Gejjuga), মালায়ালামে কাঝানচিক্কুরু (Kazhanchikkuru), মারাঠিতে সাগরগোটি (Sagargoti), উড়িয়ায় গিলো (Gilo), পর্তুগীজে নজ-ডি-বোনডাক (noz de bonduque), সংস্কৃতে দুস্পর্শ (Duhsparsa), কণ্টকি করঞ্জা (Kantaki karanja), বজ্র বীজাকা (Vajra bijaka), কণ্টফলা (Kanta phala) ও বিটপকরঞ্জ (Vitapakaranja), স্প্যানিশে মাতো-দ্য-প্লায়া (Mato de playa), তামিল ভাষায় কাঝারচিক্কাই (Kazharchikkaai), তেলেগুতে যক্ষাখি (Yakshakshi), উর্দুতে করঞ্জ (Karanja) বলা হয়।

ব্যবহার
-----------------------------
নাটা’র শেকড়, বীজ, পাতা ও বাকলে ঔষধি উপাদান আছে। আয়ুর্বেদমতে, ফলের খোসা পুড়িয়ে বা ভেজে গুঁড়ো করে কুইনাইনের বিকল্প হিশেবে ব্যবহার করা হয়। শেকড়ের রস গুঁড়োকৃমি, জ্বর, কাশি, ঋতুস্রাব ও সন্তান জন্মদানের পর জরায়ুর সমস্যা দূর করে। পাতার রস জলবসন্ত, যকৃতের রোগ ও ঘামের দুর্গন্ধ নাশে সহায়তা করে। নাটার বীজ দিয়ে তৈরি তরল পাকস্থলির সমস্যা নিরোধক এবং বাত নিরাময়কারী। প্রথাগত চিকিৎসামতে বীজের খোসা জ্বালা দমনকারী হিশেবেও ব্যবহৃত হয় (৬)। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে শিশুকিশোররা বিভিন্ন খেলায় এ বীজ গুঁটির মতো ব্যবহার করে। এছাড়া গবাদিপশুর হাত থেকে ফসল রক্ষার জন্য শস্যক্ষেত্রের আইলে এ গাছ লাগানো হয়। সুন্দরবন অঞ্চলের অধিবাসীরা ম্যালেরিয়া ও কৃমি থেকে বাঁচার জন্য নাটাবীজের গুঁড়ো ব্যবহার করে। সোমোয়া ও টোঙ্গার আদিবাসীরা কাঁটাওয়ালা কাণ্ডের ফাঁদ পেতে বাদুড় দূর করে। গহনা তৈরিতেও নাটার বীজ ব্যবহার করা হয়।

সংরক্ষণের অবস্থা
-----------------------------
আইউসিএন-এর বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় (IUCN Red List) হরগজাকে ন্যুনতম বিপদাপন্ন (Least Concern) হিশেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে, এ প্রজাতিটি সংরক্ষণের জন্য কোনো উদ্যোগ দেখা যায় নি।
Caesalpinia bonduc

পাদটীকা
-----------------------------
(১) বাদা সহযোগী : যেসব গাছ বাদাবনের যে কোনো একটি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সাধারণ পরিবেশে জন্মাতে পারে তাদেরকে ‘বাদা সহযোগী’ গাছ বলা হয়। বাদাবনের প্রধান চারটি বৈশিষ্ট্য হলো : জলাভূমি, লবণাক্ততা, তীব্র বায়ুপ্রবাহ ও পলি অবক্ষেপণ।
(২) কালোবাদা : কতোটা লবণাক্ততায় বেড়ে উঠতে পারে সেই মাপকাঠি অনুসারে বাদাগাছগুলোকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা হয় : লালবাদা, কালোবাদা ও সাদাবাদা। মাঝারি মানের লবণাক্ততা (৫-১৮ পিপিটি) সহ্য করতে পারে এমন গাছগুলোকে কালোবাদা বলা হয়।
(৩) James Wallace (1883). A Description of the Isles of Orkney, 1693, 2nd ed. ed. John Small, Edinburgh
(৪) Jack D. Forbes (2007). The American Discovery of Europe. Urbana: University of Illinois.
(৫) পিপিটি : পার্টস্ পার থাউজ্যান্ড। প্রতি হাজারে ১ কণা থাকলে তাকে ১ পিপিটি বলা হয়। ১ লিটার পানিতে ১ মিলি লবণ থাকলে ওই পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ ১ পিপিটি।
(৬) http://www.sciencepub.net/report/report0203/13_2487_komal_report0203_83_90.pdf
Caesalpinia bonduc

অধিকতর তথ্য
-----------------------------
(১) Khatun, B.M. Rizia (2009). Caesalpinia bonduc (L.) Roxb. (1832). In Ahmed, Z.U., Hassan, M.A., Begum, Z.N.T., Khondker, M., Kabir, S.M.H., Ahmad, M. and Ahmed, A.T.A (eds.). Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh, Vol. 9. Angiosperms: Dicotyledons (Balsaminaceae-Euphorbiaceae). Asiatic Society of Bangladesh. Dhaka.
(২) পাল, নিশীথ কুমার (২০১৫). উদ্ভিদবিজ্ঞান শব্দকোষ. অন্বেষা প্রকাশন. ঢাকা
(৩) https://en.wikipedia.org/wiki/Caesalpinia_bonduc
(৪) https://en.wikipedia.org/wiki/Nickernut
(৫) http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3459446/
(৬) http://www.alwaysayurveda.com/caesalpinia-bonducella/
(৭) http://eol.org/pages/703525/overview
(৮) http://indiabiodiversity.org/species/show/32057
(৯) http://waynesword.palomar.edu/nicker.htm
(১০) http://lkcnhm.nus.edu.sg/dna/organisms/details/482
প্রদায়ক
-----------------------------
হাসান মেহেদী (mehedi.coastline@gmail.com)